শহর এলাকায় ফিল্টার ছাড়া পানি বিশুদ্ধিকরণ পদ্ধতি।

Sharing is caring!

” পানির অপর নাম জীবন ” খুব চেনা জানা একটা কথা। কিন্তু যতক্ষণ না আপনি পানি জনিত কোনো বড় বিপদের মুখে পড়ছেন ততক্ষণ পর্যন্ত তা সহজই মনে হবে।

গ্রামে যারা বসবাস করে তাদের বিশুদ্ধ পানির তেমন সমস্যা হয়না। কিন্তু যারা শহরে বাস করেন তাদের এই সমস্যার মুখে প্রতিনিয়ত পড়তে হয়। যেমন: আয়রণ যুক্ত পানি,  ময়লা যুক্ত পানি ইত্যাদি।

সাধারণত আয়রণ যুক্ত পানি মানুষ কষ্ট করে খেয়ে নেয়। কিন্ত ফলাফল দেখা যায় দাত এ কালো দাগ পড়ে যায়। রান্নায় ব্যবহার করলে অনেকটা কালো হয়ে যায় তরকারি।

চা এ ব্যবহার করলে চা ও কালো হয়ে যায়।  তাছাড়া কাপড় ধোয়ার জন্যে ব্যবহার করলে কাপড় এর রঙ নষ্ট হয়ে যায়। চুল ঝরা বেড়ে যায় অনেক।  এছাড়া ও নানা রোগ ব্যাধি ও হয় এর কারণে।

প্রথম দিকে বুঝা না গেলেও শেষ এ অনেক রোগ দেখা দেয়।

বাসায় পানি বিশুদ্ধ করণ এর কয়েকটি নিয়ম :

১. সবচেয়ে প্রাচীন এবং আদর্শ নিয়ম এর মধ্যে আছে পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করা। বিশেষজ্ঞ দের মতে পানি ৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৫ থেকে ২০ মিনিট ফুটালে জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি লার্ভা সহ বিনাশ হয়ে যায়।

তারপর তা ঠান্ডা করে কাচের পাত্র বা স্টিলের পাত্রে সংগ্রহ করুন।  ১-২ দিনের বেশি সংগ্রহ করবেন না। এতে পূনরায় জীবাণু আক্রমণ করে। তবে আমার নিজের কাছে মনে হয় এ পদ্ধতি তে পানির স্বাদ ঠিক থাকেনা।

২. পানি বিশুদ্ধিকরণ এর অন্যতম পদ্ধতি হলো ফিটকারী দিয়ে পানি বিশুদ্ধ করণ। বাজারে মুদি দোকানে ফিটকারী কিনতে পাওয়া যায়।

একটি বালতি বা কলস বা জগ এ সামান্য পরিমাণ ফিটকারী দিয়ে দিন। ৩-৪ ঘন্টা ঢেকে রেখে দিন। পড়ে ঢাকনা সরিয়ে দেখবেন বালতি বা কলস বা জগ এর তলানিতে ময়লা জমে আছে।

উপর থেকে পানি সরিয়ে সংগ্রহ করুন ২ দিনের বেশি সংগ্রহ করবেন না।

৩. অনেক সময় দূর্গম এলাকায় বা ভ্রমণ এ গেলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায় না। তখন আপনি বিশুদ্ধ পানির জন্যে হয়ে যেতে পারেন কোনো রোগের রোগি। আপনার ভ্রমণ আনন্দ আর শক্তি দুটোই শেষ হয়ে যেতে পারে।

চিন্তার কারণ নেই সমাধান আছে। ভ্রমণ পিপাসু মানুষ দের কাছে অতি প্রিয় একটি পানি বিশুদ্ধি করণ রাসায়নিক হলো ক্লোরিন  ট্যাব্লেট।  ট্যাব্লেট পেতে পারেন ফার্মেসি তে।

প্রতি এক লিটার পানিতে  একটি ট্যাব্লেট এর  ৩ ভাগের এক অংশ দিবেন মানে প্রতি তিন লিটার এ ১ টি পূর্ণ ট্যাবলেট দিবেন।পুরো বিশুদ্ধ না হলে ও অন্তত জীবন বাচাবে।  বেশি সময় সংরক্ষণ করে রাখবেন না।

৪. যেসব যায়গায় এসব কিছু পাওয়া যায়না বা পাওয়া গেলেও আপনাদের খেতে সমস্যা হয় তারা ব্যবহার করতে পারেন বৃষ্টির পানি। বৃষ্টির পানি সব সময় বিশুদ্ধই থাকে।

সেক্ষেত্রে বৃষ্টি শুরু হওয়ার ১০ মিনিট পর একটা পরিষ্কার পাত্রে পানি সংরক্ষণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে পাত্র যেনো পরিষ্কার থাকে। আর বালতিতে সংগ্রহ করলে ও পড়ে স্টিলের পাত্র বা মাটির চাড়িতে স্থানান্তর করে নিতে হবে।

৫. পানি বিশুদ্ধিকরণ এর অন্যতম একটি মাধ্যম হলো সূর্যের আলো।

দূর্গম ও প্রতন্ত অঞ্চল এ পানি বিশুদ্ধিকরণ এর অন্য মাধ্যম না পেলে এটাই শেষ সম্বল। এক্ষেত্রে সূর্য এর আলোতে সরাসরি একটি বালতি বা স্টিলের বোলে পানি দিয়ে রেখে দিতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে যেনো গাছ এর নিচে না থাকে এবং যেনো ধুলা না পড়ে। সূর্য এর আলোতে ৪-৫ ঘন্টা রাখলে এর তাপে পানির জীবাণু মারা যায়।

৬. বাসায় ও রেডি করতে পারেন ফিল্টার।  যা যা লাগবে :পাতলা কাপড়,  বালি, ইট এর টুকরা বা কংক্রিট অথবা কয়লা,  বালতি, ফোম, নেট এর ব্যাগ বা সলতে।  যেভাবে বানাবেন :

(ক) প্রথমে  একটি বালতি তে ৩-৪টা ফুটো করে নিবেন। এবার ফুটোতে খুব শক্ত করে সলতে বা নেট এর ব্যাগ ঢুকিয়ে দিবেন। সলতে বা নেট এর ব্যাগ ব্যবহার এর আগে ভালো ভাবে পানিতে ফুটিয়ে নিবেন।

(খ) এবার বালতিতে প্রথমে একটা পাতলা নরম সুতি কাপর দিবেন। এরপর  বালি দিবেন তারপর ফোম, তার উপরে কংক্রিট বা কয়লা দুটোই দিতে পারেন অথবা যেকোনো একটি।

এবার ঢেকে দিবেন কিছু দিয়ে। দু তিনদিন আগে এম্নিতে ব্যবহার করবেন পানি সংরক্ষণ না করে। এরপর একটা স্ট্যান্ড এ বালতি বসিয়ে নিচে আরেকটা বালতি দিয়ে পানি ব্যবহার করতে পারবেন।

অবশ্যই বালি, কয়লা, কংক্রিট,ফোম আগেই ধুয়ে নিবেন ভালো ভাবে।

চেষ্টা করবেন পানি প্লাস্টিক এর বোতলে সংরক্ষণ না করার জন্যে। যাদের বাসায় ফিল্টার আছে তারা রেগুলার ফিল্টার পরিষ্কার রাখবেন। পানির ট্যাংক পরিষ্কার রাখবেন সব সময়।
মনে রাখবেন পানির অপর নাম জীবন হলেও বিশুদ্ধ পানির নাম জীবন। দূষিত পানির নাম নয়। সচেতন হন বিশুদ্ধ পানি পান করুন।