Fri. Dec 4th, 2020

Dakter Achen

Forget Medicine, GO With Nature

জেনেনিন গর্ভাবস্থায় কি খাবেন, কি খাবেন না।

1 min read

“প্রেগন্যান্সির” সময়টা সব মেয়ের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। নিজের মধ্যে অন্য একটি শরীর ধীরে ধীরে বাড়ছে, এই অনুভূতিটা সত্যি অন্যরকম। সবারই ইচ্ছা থাকে একটি GolMotul Baby 🙂 হবে। ঘরে-বাইরে খেলে বেড়াবে।

গর্ভাবস্থায় আপনি যে সকল খাবার খাচ্ছেন তাতে আপনার বাচ্চাকে সঠিক নিউট্রিয়েন্ট পাচ্ছে কি কিনা, তার গ্রোথ ঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা এ সকল বিষয়ে আপনাকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে।

চলুন দেখে নেয়া যাক কোন  খাবার গুলো একজন গর্ভবতী মহিলা ও তার অনাগত সন্তানকে সঠিক পরিমাণ নিউট্রিয়েন্ট, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন সরবারহ করবেঃ

 

ফলমূল-শাকসবজিঃ

একজন গর্ভবতী মহিলার খাবারের ৫ শতাংশে যেন ফলমূল-শাকসবজি থাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। সেটি জুসও হতে পারে। এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণ নিউট্রিয়েন্ট, ভিটামিন থাকে।

তবে জুসের চেয়ে ফল সরাসরি খাওয়াটা বেশি কার্যকরী। তবে গাজর জাতীয় সবজি গুলো জুস হিসেবে পান করা যেতে পারে।

pregnancy nutrition guide

কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবারঃ

ভাত, আটা রুটি, পাস্তা, পাউরুটি, আলু এই খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে যা শরীরকে শক্তির যোগান দেয় এবং কার্বোহাইড্রেট গর্ভবতীর জন্য আবশ্যক।

প্রোটিনঃ

প্রেগন্যান্ট অবস্থায় সঠিক প্রোটিনের জন্য মাছ, মাংস, শিম, বাদাম,বাটার এই জাতীয় খাবারগুলো গ্রহণ করতে হবে কারণ এই খাবারগুলো প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচ্য।

ব্রিটিশ ও ব্রাজিলিয়ান এক দল গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা গর্ভাবস্থায় সীফুড গ্রহণ তাদের মেন্টাল স্ট্যাবিলিটি যারা গ্রহণ করেনা তাদের চেয়ে ৫৩% বেশি হয়।

ফাইবারঃ

গর্ভাবস্থায় “কন্সটিপেসনের” সমস্যা দেখা যায়। এ সমস্যা এড়াতে হলে অবশ্যই রুটি, পাস্তা, শিম এ সকল ফাইবার যুক্ত খাবার খেতে হবে।

ক্যালসিয়ামঃ

দুধ খেতে ইচ্ছে করেনা, গন্ধটা নাকে এসে লাগে? যে আসছে তার জন্য আপনাকে এই সময় দুধ খেতেই হবে। ডেইরি প্রোডাক্ট যেমনঃ দুধ, চিজ, ইওগার্ট এই খাবারগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম।

জিংকঃ

বাচ্চার স্বাভাবিক বিকাশ, ওজন,ব্রেন ডেবেলপমেন্ট, অন্যান্য বায়োলজিকাল ফাংশনের জন্য গর্ভাবস্থায় জিংক অত্যন্ত জরুরী। এর জন্য আদা, পিঁয়াজ, পিনাট বাটার, বাদাম, শিম, মাছ, মাংস খাদ্য তালিকায় রাখা জরুরী।

আয়রনঃ

হিমোগ্লোবিন তৈরীর প্রদান উপকরণ হলো আয়রন। হিমোগ্লোবিন রক্তে ব্লাড সেল তৈরী করে যেটি সমস্ত শরীরে অক্সিজেন সরবারহ করে। গর্ভাবস্থায় শরীরে  রক্তের পরিমাণ ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। তাই হিমোগ্লোবিননের জন্য আয়রনের দরকার হয়।

শরীরে যদি আয়রনের পরিমাণ কম হয় তাহলে বিভিন্ন ধরণের সমস্যায় পড়তে হয়। যেমনঃ

  1. -অসময়ে ডেলিভারি
  2. -বাচ্চার ওজন কম হওয়া।
  3. -নবজাতকের জীবন নাশের আশংকা।
  4. গর্ভাবস্থায় দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ।
  5. এ সকল সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে আয়রনের পরিমাণ হতে হবে। তার জন্য নিম্নোক্ত খাবারগুলো খেতে হবেঃ
  6. -শুকনো শিম।
  7. -ড্রাই ফ্রুট।
  8. -ডিম
  9. -হোলগ্রেইন (বাদামী ভাত,ওটস, গম)
  10. -মাংস
  11. -ওস্টার। অবশ্যই রান্না করে খেতে হবে।
  12. -স্যালমন মাছ,টুনা মাছ।
  13. -হাঁস
  14. -ব্রোকলি,শাক।প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি খাবার থেকে প্রাপ্ত আয়রন সহজে শরীরে মিশে যায়।

 

যে খাবারগুলো পরিহার করতে হবেঃ

এই সময়ে কিছু খাবার গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকতে হবে। যেমনঃ

avoid food during pregnancy (1)

সামুদ্রিক মাছঃ সামুদ্রিক মাছ শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত সামুদ্রিক মাছ গ্রহণ বাচ্চার স্নায়ু তন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

 

অর্ধসিদ্ধ মাংসঃ এই খাবারটি সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে। কারণ, অর্ধসিদ্ধ হওয়ার কারণে এই ধরনের খাবারে ব্যাকটেরিয়া থেকে যেতে পারে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।

 

কাঁচা ডিমঃ অনেকের কাঁচা ডিম খাওয়ার অভ্যাস থাকে। গর্ভাবস্থায় “স্যালমোনেলা” ইনফেকশন এড়াতে হলে অবশ্যই ডিম সিদ্ধ কিংবা রান্না করে খেতে হবে।

 

লিভারঃ ডাক্তারদের মতে, লিভারে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন থাকে যা বাচ্চার শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

 

ক্যালরিশূন্য খাবারঃ কেক, বিস্কুট, কুকিজ, ক্যান্ডি এ ধরনের খাবারগুলো নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখতে হবে কারণ এতে প্রচুর পরিমাণ সুগার থাকে।

 

আনারস ও পেঁপেঃ এই দুটি ফল গর্ভাবস্থায় একদম নয়। আনারসের ব্রোমেলেন আর পেঁপেতে থাকা ল্যাটেক্স গর্ভের বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর এমনকি গর্ভপাতের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে

 

তাছাড়া, এ সময় প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে,হাঁটা চলা করতে হবে। মন ভালো রাখতে বই পড়া, গান শোনা হতে পারে ভালো মাধ্যম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *