পিরিয়ডজনিত প্রচণ্ড ব্যথা হলে আপনার করনীয় কি?

Home Health পিরিয়ডজনিত প্রচণ্ড ব্যথা হলে আপনার করনীয় কি?
period pain solution

Sharing is caring!

আজকাল পিরিয়ড বা মাসিক জনিত ব্যাথা প্রায় প্রতিটি মেয়েরই হয়।  এর প্রধান কারণ হলো খাবারে অনিয়মিততা, ভেজাল যুক্ত খাবার ইত্যাদি। বাজার এর প্রায় সব খাবারেই ভেজাল, তবুও এই ভেজাল এর ফাকে কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে পিরিয়ডকালীন সময় এর ব্যাথা কমানো যায় তা দেখে নেওয়া যাক।

১. গরম পানির সেক: পিরিয়ড কালীন ব্যাথা কমাতে সবার প্রথমেই আছে গরম পানির সেক। গাড়ো প্লাস্টিক এর বোতল নিন অথবা বাজারে পানি গরম রাখার জন্যে যে প্লাস্টিক এর ব্যাগ / ওয়াটার ব্যাগ পাওয়া যায় সেগুলা নিন।

period pain

পানি গরম করে ব্যাগ বা বোতলে দিয়ে একটা সুতি কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে নিন। এবার তা তল পেটে দিয়ে সেক দিন। অনেক আরাম পাবেন।

২. আদা : পিরিয়ড কালীন ব্যাথায় আদা অনেক উপকার দেয়। আপনি যদি আদা এমনিতে খেতে পারেন তাহলে অনেক ভালো। আর না হয় পানি কুসুম গরম করে আদা কুচি করে দিন।

এবার তা খেয়ে নিন। পিরিয়ড কালীন সময়ে সব কিছুতে এক টুকরা পরিমাণ আদা খাওয়ার চেষ্টা করবেন। আদা কুচি করে লবণ দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৩. দারূচিনি: দারুচিনি পিরিয়ড এর জন্যে অনেক ভালো। আপনি চাইলে এমনিতেও খেতে পারেন। অথবা দারুচিনি গুড়ো করে কুসুম গরম পানিতে  গুলিয়ে  একটু মধু দিয়ে খেয়ে নিন।

অনেক ভালো ফল পাবেন। দারুচিনি এম্নিতেই খাওয়া যায় একটু ঝাঝালো কিন্তু মিষ্টি। 🙂 😛

৪. লেবুর রস: কুসুম গরম পানি করে নিন। এতে ৪ – ৫ লেবুর রস, একটু লবণ দিয়ে গুলিয়ে খেয়ে নিন।  অথবা আপনি পারলে লেবু লবণ দিয়ে খেয়ে নিন।

৫. মধু: মধু কুসুম গরম করে খেয়ে নিন। অথবা লেবুর রস এর সাথে মিক্স করে খান। কিন্তু খেয়াল রাখবেন যেনো তা খাটি মধু হয়। ভেজাল খেয়ে লাভ নেই।

৬. ভিটামিন : ভিটামিন যুক্ত খাবার খান। বিশেষ করে ভিটামিন বি এবং ভিটামিন ই। প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক সবজি খান, ছোটো মাছ খান।

৭. পানি: এ সময় অনেক পানি শূন্যতা দেখা দেয়। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

৮. তেতুল : তেতুল কুসুম গরম পানিতে গুলিয়ে লবণ মিশিয়ে খান। এতে রক্তক্ষরণ স্বাভাবিক হয়।

৯. তুলসী : তুলসী অনেক ভালো একটি ঔষধ। বাজারে তুলসী চা পাওয়া যায়। তা এনে খেতে পারেন অথবা তুলসী পাতা কুসুম গরম পানিতে দিয়ে খেতে পারেন রস।

১০. মশলা: এই সময় মশলা জাতীয় খাবার কম খান। কারণ তা প্রদাহ বাড়ায়।

যেই কয়টি জিনিস এড়িয়ে চলবেন। 

১. চা, কফি জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো এ সময়। এতে ব্যাথা বেড়ে যায়। চা তে ভিটামিন থাকলে ও ভিটামিন বি থাকেনা। কফিতে ক্যাফেইন থাকে। যা পেটে অসস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করে।

২. ঠান্ডা পানি খাওয়া বাদ দিন। কারণ তা রক্ত কে জমাট বাধিয়ে দেয়।   আর ঠিক মতো ব্লিডিং বা রক্তক্ষরণ না হলে আরো ব্যাথার সৃষ্টি হয়। আর পরবর্তী তে সমস্যা করে।

৩. শ্যাম্পু করা বন্ধ রাখুন।  তখন ত্বক অনেক নাজুক  থাকে। তাই অল্প তেই চুল অনেক ঝরে যায়। তাই কদিনের জন্যে বন্ধ রাখুন।

৪. পরিমিত পরিমাণ ঘুমান।

৫. তেল জাতীয় খাবার এর পরিমাণ  কমান। ফাস্ট ফুড খাবার কম রাখুন।

৬. পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন।

৭. তখন শরীরের সব লোমকূপ খুলে যায়। তাই সাবধান এ থাকবেন। তখন একটু ব্যাথাও অনেক পরিমাণ এ কষ্ট দেয়।

৮. চেষ্টা করবেন সব সময় হাসি খুশি থাকার। টেনশন কম করার।

৯.ফরমালিন যুক্ত ফল না খেয়ে তা ফরমালিন মুক্ত করে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এর জন্য নিজে গাছ থেকে পেড়ে ফল খাবেন, নিজের বাগান থেকে সবজি খাবার চেষ্টা করুন। বাজারে থেকে কি খাচ্ছেন কিভাবে জানবেন?

১০. বেশি বেশি শরবত খাওয়ার চেষ্টা করবেন। পানি শুন্যতা দেখা না দেওয়ার জন্যে।

 

উপরের নিয়ম গুলো মেনে চললে অনেক টাই ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.