Fri. Dec 4th, 2020

Dakter Achen

Forget Medicine, GO With Nature

নবজাতকের যত্নে ৯ টি নিয়ম যা করণীয়

1 min read

১০ মাস ১০ দিন পর মায়ের অপেক্ষার পালা শেষ হয়। তার কোলে আসে “গাবলুগুবলু” ছোট্ট সোনা। পরিবারের সকলের সব ধ্যান-ধারণা ঘিরে থাকে এই শিশুটি।

কিভাবে তার যত্ন নিতে হবে এই নিয়ে সকলের মনে অনেক প্রশ্ন কাজ করে। জন্মের পর প্রথম ২৮ দিন শিশুর যত্নে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। এই ২৮ দিনকে বলা “নবজাতক পিরিয়ড “

আমাদের আজ এই আর্টিকেলটি সাজানো হয়েছে নবজাতকের যত্ন কিভাবে নিতে হবে এই বিষয়টি কেন্দ্র করে। চলুন দেখে নেওয়া যাক নবজাতকের যত্নে করণীয় কি কি?

newborn baby care

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা:

শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার  নরম কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তারপর অন্য একটি নরম কাপড়ে মাথাসহ (মুখবাদে) তাকে জড়িয়ে নিতে হবে।

বাচ্চা যদি ক্লিনিকে জন্মায় তবে সেখানে অবস্থানরত নার্স এসব কাজ করে থাকে। তবে গ্রামাঞ্চলে এখনো দাত্রীদের ওপর নির্ভর করা হয়।

জন্মের পর শিশুর শরীরে একটি পাতলা সাদা আবরণ থাকে। এটিকে বলা হয় “এমিওনিটিক ফ্লুইড” ৷ এর ওপর  আরেকটি লেয়ার থাকে যার নাম  ভারনিক্স ক্যাসোসা।

ভুল করেও সাদা আবরণটি তুলতে চাইবেন না। সপ্তাহ খানেক পর এটি আপনা-আপনি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

newborn baby bath

নবজাতকের  স্নানের নিয়মঃ

ডাক্তাররা সাধারণত নাভি শুকানোর আগ পর্যন্ত শিশুকে স্নান করাতে বারণ করে থাকে। এই সময়টা কুসুম গরম জলে নরম কাপড় ভিজিয়ে হালকা ভাবে শিশুর শরীর মুছে নিন।

তারপর শুকনো নরম কাপড় দিয়ে মুছে। মনে রাখবেন জল যেন বেশি গরম না হয় কারণ নবজাতকের ত্বক খুবই নাজুক হয়ে থাকে। নবজাতকের যৌনাঙ্গে লালচে টাইপ কিছু ময়লা দেখা যায়।

নরম কাপড়ে কুসুম জলে ডুবিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার বেবি অয়েল লাগিয়ে নিন।। বাজারে বাচ্চাদের জন্য কিছু ওয়েট টিস্যু কিনতে পাওয়া যায়। সেটিও ব্যবহার করতে পারেন।

নবজাতকের পোশাকঃ

নবজাতকের জন্য নরম কাপড়ের, শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঢিলেঢালা পোশাক নির্বাচন করতে হবে। ব্যবহারের আগে নবজাতকের পোশাক, কাঁথা। ডেটল,স্যাভলন জাতীয় জীবাণুনাশক লিকুইড দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

এতে জীবাণু সংক্রমণের ভয় থাকবেনা। আর পোশাক আশাক রোদে শুকানোর চেষ্টা করতে হবে।

newborn baby navel care

নাভির যত্নেঃ

নাভি যেন সবসময় শুষ্ক থাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। শুষ্ক থাকলে নাভি তাড়াতাড়ি ঝরে যাবে। না শুকনো অবধি নাভিতে তেল, সাবান লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

তবে, বর্তমানে ডাক্তারেরা নাভি শুকানোর জন্য অ্যালকোহল লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তুলা বা কটনবার ব্যবহার করে লাগাতে হবে।

নবজাতকের নখের যত্নেঃ

নবজাতকের নখ খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। নখের আঘাতে চোখে, বুকে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। তাই নখ বাড়লেই দেরি না করে কেটে দিতে হবে। ঘুমানোর সময় কাটা উত্তম। তাছাড়া, স্নানের পর নখ নরম থাকে।

এই সময়েও কাটা যায়। জেগে থাকা অবস্থায় কাটতে হলে অন্যের সাহায্য নিন।

newborn baby eye care

নবজাতকের চোখের যত্নেঃ

চোখের উপর অনেক সময় ময়লা জমতে পারে। এক্ষেতে নরম কাপড় কুসুম গরম জলে ভিজিয়ে হালকা করে মুছে দিতে হবে। অনেকে ব্রু তে কাজল ব্যবহার করে থাকে।

অনেক সময় কাজল থেকে ইনফেকশন হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

 

কানের যত্নেঃ

ভুল করেও কানে কটন বাড ব্যবহার করতে যাবেন না। কানে কিছু লোম থাকে যা আপনা আপনি ভেতর থেকে ময়লা বের করে দেয়। কানের উপরিভাগ পরিষ্কার রাখতে নরম পরিষ্কার কাপড় গরম জলে ভিজিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া বেবি অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন।

 

জিহ্বা পরিস্কার রাখতেঃ

নবজাতকের জিহ্বাতে দুধ পানের কারণে সাদা এক ধরনের আস্তর দেখা যায়। নরম কাপড় ভিজিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে নিন।

 

নাকের যত্নেঃ

নাকে ময়লা জমলে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। নাক পরিষ্কারের জন্য কটন বাড ব্যবহার না করে নরম কাপড়ের কোনা সামান্য পেচিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে নিন।

 

এছাড়া নবজাতককে সাবান দিয়ে হাত না ধুয়ে স্পর্শ করবেন না। তাকে অবশ্যই শাল দুধ দিতে হবে।

 

 

Writer Puja Dhar 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *