১০ টি উপায়ে কিভাবে চুল পড়া বন্ধ করে, চুল উঠা বাড়াবেন?

Sharing is caring!

চুল পড়া হচ্ছে এখনকার মানুষ এর সবচেয়ে বড় প্রব্লেম। আগে বলা হতো নারীর সৌন্দর্য হচ্ছে চুল কিন্তু চুল ছাড়া কি পুরুষ সুন্দর?

অবশ্যই না। সুন্দর চুল যেকোনো মানুষ কে আকর্ষণীয় করে তোলে।  এক চুল পড়া বন্ধ করার জন্যে মানুষ কতো কিছুই না করে।কত টাকা পয়সা খরচ করে কিন্ত চাইলেই কম খরচ করে ও অনেক সুফল পাওয়া যায়।

কিন্তু এখন দেশে সব জিনিস এ এতো ভেজাল যে চুল ২০ বছর পর্যন্ত বাচিয়ে রাখাই মহামুশকিল এর কাজ হয়ে দাড়িয়েছে।

beautiful-hair (1)

আবার এটাও সত্য যে আমরা যদি একটু চেষ্টা করি তবে চুল পড়া টা অনেকাংশই কমিয়ে দিতে পারি। যদি অলসতা না করে চেষ্টা করি আরকি।

আজকাল অনেকে চুল পড়া নিয়ে টিপস দেয় কিন্তু তা কার্যকর হয়না।আসল সমস্যা হলো সবার মাথার ত্বক এক না।আর একই শ্যাম্পু বা মেডিসিন এ সবার চুল পড়া কমেনা।

আসুন যেনে নেই সহজ উপায়ে চুল পড়া কমানোর পদ্ধতি। যার জন্যে আপনার টাকা খরচ হলেও অনেকাংশেই কম খরচ হবে।মোটামুটি সব উপকরণই ঘরে পাবেন।

১. চাল: চাল থেকেই শুরু করি। চাল তো সবাই ধুয়ে তারপর ভাত রান্না করে খাই তাইনা? তো চাল প্রথম ২ বার ধুয়ে ময়লাযুক্ত পানি ফেলে পরে ৫মিনিট চাল টা ভিজিয়ে রেখে ৩ বারের পানি টা রেখে দিন।

rice-water-for-hair-grow

যাকে বলে ইংলিশে Rice water. এই রাইস ওয়াটার আপনার চুলে শ্যাম্পুর আধা বা ১-২ ঘন্টা আগে দিয়ে দিন।  এরকম ব্যবহার করুন সপ্তাহে ৩-৪বার।

২.তেজপাতা:  তেজাপাতা তো অনেক কমদামী আর অনেক উপকারী একটা জিনিশ।মাথায় শ্যাম্পু করার আগে ফুটন্ত পানিতে ২-৩টা তেজপাতা কুচি করে দিয়ে দিন।

hair-loss

এরপর পানি ঠান্ডা করে মাথায় দিন।সপ্তাহে ৩-৪ বার ব্যবহার করুন। ভালো ফল পাবেন।

৩.শ্যাম্পু:শ্যাম্পু প্রতিদিন ব্যবহার করা এভয়েড করুন। শ্যাম্পুর সাথে এক চামচ চিনি মিক্স করে আধাঘন্টা ম্যাসাজ করে চুলে দিলে চুল সিল্কি হয়।

কিন্তু সাইড এফেক্ট হলো উকুন হয়ে যায়!তবুও ট্রাই করে দেখতে পারেন

৪.থানকুনি পাতা : খুবই সহজলভ্য একটা জিনিস। থানকুনি পাতা ডাটা সহ তুলে সাথে কালকেশরী পাতা তুলে বেটে বা ব্লেন্ড করে চুলে দিতে পারেন।

সাথে একটু খানি লেবুর রস দিলে ভিটামিন সি ও পেলেন। কালকেশরী পাতা না চিনলে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখে নিন।দুটোই এক প্রকার ঘাস।

কালকেশরী চুলকে কালো করতে সাহায্য করে আর থানকুনি পাতা গোড়া শক্ত করে।

৫.পেয়াজ: পেয়াজ তো বাসায় প্রতিদিনই বাটা লাগে বা ব্লেন্ড করা লাগে। আপনি পেয়াজ ব্লেন্ড করার পর রস টুকু ছেকে নিন।  এরপর এইগুলা মাথায় ম্যাসাজ করুন।একদিন রেখে শ্যাম্পু করে নিন।

৬.এলোভেরা : এলোভেরা নিয়ে তো বলার নতুন কিছুই নেই।অনেক রোগের উপকারী।চাইলে শরবত বানিয়ে খেতে পারেন বা এলোভেরা জেল তুলে চুলায় দিয়ে গলিয়ে নিন।

সাথে কালোজিরা,ম্যাথি, তেজপাতা আর নারিকেল তেল দিয়ে ভেষজ  তেল বানিয়ে নিন।

৭.পানি:সবচেয়ে বড় প্রব্লেম হয় পানিতে। শহড় এলাকায় পানি ভালো থাকেনা। তারজন্যে আপনি চাইলে পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ব্যবহার করতে পারেন।

অথবা পানি বালতি তে রিজার্ভ করে রেখে দিন ৪-৫ ঘন্টা। এতে ময়লা বালতির নিচে চলে যায়। এরপর এই পানি মাথায় ব্যবহার করুন।

৮.পর্যাপ্ত পড়িমাণ ঘুমান।

৯.খাবার ঠিক রাখুন। অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত সুষম খাদ্য খান। বেশি শাক-সব্জি খাওয়ার চেস্টা করুন।

১০.প্রতিদিন গোসল করুন। চুলে তেল নিয়মিত দিন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন।

আশা করি উপরের কথা মেনে চললে চুল পড়া অনেকাংশেই কমে যাবে।

মানুষ চাইলেই সব কিছু করতে পারেন। আপনি আপনার স্বাস্থের রুটিন আপনার আশে পাশের ফ্রেশ খাবার দিয়েই শুরু করুন। আর আমরা কোন মেডিসিন নিতে বলি না। যদি মার্কেটের কোন প্রোডাক্ট আসলেই উপকার এ আসে।

তাহলে আমাদের টিম তা ২ মাস ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক এর উপর প্রয়োগ করে, ভালো ফলাফল পেলে তবেই আমরা তা কিনার জন্য সুপারিশ করবো।

(যদি আপনাদের কোন প্রোডাক্ট সুপারিশ যোগ্য মনে হয়, আমাদের জানান)