Fri. Dec 4th, 2020

Dakter Achen

Forget Medicine, GO With Nature

সাময়িক তৃপ্তির জন্য কোমল পানীয় পান শরীরে বড় কোন ক্ষতি করছেনা তো?

1 min read

বাইরে প্রচন্ড গরম। গলা শুকিয়ে কাঠ। বাড়ি ফিরে আসার পথে সাথে করে দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসলেন পছন্দের ব্র‍্যান্ডের সফট ড্রিংক। চুমুক দিতেই মনে হলো, আহা!  কি শান্তি।

বাড়িতে আজ দারুণ সব খাবার রান্না হয়েছে। পোলাও, বিরিয়ানি, চিকেন রোস্ট, মাটন কষা। খাওয়া শেষে কোল্ড ড্রিংকস চাই চাই। নইলে আবার জমে নাকি। রোজকার জীবনে কিংবা প্রায় সময় কি পছন্দের পানীয় হিসেবে কোমল পানীয় পান করা হয়ে থাকে?

তবে, স্বাগতম। না না আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছিনা। এই সকল কোমল পানীয় আপনার শরীরে যে সকল রোগকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে তাদের স্বাগতম জানাচ্ছি।

 

কোমল পানীয় হচ্ছে এক ধরনের  কার্বনেটেড পানীয় যেগুলি সাধারণত সোডা, সোডা পপ, পপ বা টনিক হিসাবে পরিচিত।  যদিও এই জাতীয় পানীয়গুলি মাঝে মাঝে গ্রহণের ফলে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনা তবে নিয়মিত সেবন মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়।

 

১৯৯৮ সালে কোমল পানীয়কে কেন্দ্র করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। “লিকুয়িড ক্যান্ডি” শিরোনামে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন অনুযায়ী নিয়মিত কোমল পানীয় পানের ফলে বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যেমনঃ

is diet soda bad for you

অতিস্থূলতাজনিত রোগঃ

সফট ড্রিঙ্কসে উচ্চ পরিমাণে চিনি থাকে যা প্রতিদিনের ডায়েটে ক্যালোরি যুক্ত করে। প্রাপ্তবয়স্কদের বা শিশুদের উভয় ক্ষেত্রেই কোমল পানীয়ের নিয়মিত সেবন স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

সফট ড্রিঙ্কসের পাশাপাশি এনার্জি বা স্পোর্টস ড্রিঙ্কস, মিষ্টি চা, ফলের রস এবং অন্যান্য উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত পানীয়গুলি বডি মাস ইনডেক্স বাড়িয়ে তুলতে পারে। অতিরিক্ত ওজন

হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের  মতো দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার  কারণ হতে পারে। কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে বিশুদ্ধ জল ও ফ্যাট-মুক্ত দুধ পান হতে পারে কার্যকর সমাধান।

 

ডায়াবেটিসঃ

২০০৫ সালে “American Academy of Family Physicians” প্রকাশিত এক আর্টিকেল অনুযায়ী কোমল পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি যুক্ত থাকে। নিয়মিত সফট ড্রিঙ্কস খাওয়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত  হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। যখন আমাদের শরীর  ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে পারে এবং ডায়াবেটিস হতে পারে। ।

 

হৃদরোগঃ

অতিরিক্ত কোমল পানীয় পান  অতিরিক্ত চিনি এবং ক্যালোরি যুক্ত করে ফলে শরীরে “metabolic syndrome” ডেভেলপ এর ঝুঁকি বেড়ে যায় যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

“Metabolic syndrome” কে তখনি রোগের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয় যখন দেখা যায় মহিলাদের কোমরের আকার  ৩৫ ইঞ্চি বা পুরুষদের ৪০ ইঞ্চির চেয়ে বড় বা সমান হয় তখন বা  যখন রক্তের গ্লুকোজ স্তর ১০০ মিলিগ্রাম / ডিএল বা তার বেশি হয়,  ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ১৫০ মিলিগ্রাম / ডিএল বা উচ্চতর হয় এবং যখন রক্তচাপ থাকে  ১৩৫/৮৫ mmHg এর চেয়ে বড় বা সমান।

তাই, অতিরিক্ত সুগার, ফ্যাট যুক্ত সফট ড্রিংকসকে হার্টের জন্য ক্ষতিকারক হিসেবে গন্য করা হয়।

 

দাঁতের ক্ষয়

কোমল পানীয় পানের ফলে চিনি ব্যাকটেরিয়ার সাথে মিশে দাঁতে ক্ষয় সৃষ্টি করে। যখন এসিড ২০ মিনিট বা তার বেশী সময় ধরে দাঁতে আক্রমণ করে তখন দাঁতে “প্লাক” তৈরী হয়ে দাঁতকে ক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়।

দুগ্ধজাত খাবার, ফলমূল এবং শাকসবজিরর মতো স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে প্রাপ্ত সুগার নিয়ে চিন্তার কিছু নেই কিন্তু সোডা, প্রক্রিয়াজাত মিষ্টিজাতীয় খাবার যা কোনও পুষ্টিগুণ সরবরাহ করে না এসব খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি নিদিষ্ট মাত্রা থাকা জরুরী।

 

তাছাড়া, কোমল পানীয়তে থাকা ফসফরিক এসিড, ক্যাফেইন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কৃত্রিম চিনিসহ নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ থেকে আপনি উপহার হিসেবে পেতে পারেনঃ

 

  • অপুষ্টিজনিত রোগ
  • ক্ষুধামন্দা, অম্লতা  অ্যাসিডিটি, দুঃশ্চিন্তা এবং অনিদ্রাজনিত রোগ
  • কিডনিতে পাথর
  • পাকস্থলীর ভারসাম্য নষ্ট

 

এক দুবার বা মাঝে মাঝে কোমল পানীয় পান শরীরের জন্য ক্ষতিকর না হলেও যতটা সম্ভব এই ধরনের সোডা জাতীয় পানীয় খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত। এতে আপনার কষ্টে উপার্জিত অর্থ যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি শরীরও ভালো থাকবে।য়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *