১৪ উপায়ে যেভাবে বাঁচাবেন চোখ মোবাইল ও কম্পিউটার থেকে

Sharing is caring!

“চোখ যে মনের কথা বলে “– গানটির কথা মতো সত্যিই চোখ মনের অনেক কথাই বলে দেয়। তাই সৃষ্টিকর্তার দান এই সুন্দর চোখ জোড়াকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমাদেরই।

তাই চোখের যত্ন নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আজ আমরা আধুনিক যুগে এসে দারিয়ে আছি। আর সেই আধুনিকতাকে আরও সহজ করে দিয়েছে মোবাইল ও কম্পিউটারের ব্যাবহার।

আজ আমরা যেখানে খুশি, যতক্ষণ খুশি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছি এই মোবাইল ও কম্পিউটার এর দৌরাত্ম্যে।

how-to-protect-your-eye

বিজ্ঞানের এই আশীর্বাদকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে হবে। তাই মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম। আমরা যে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করি তা আমাদের চোখের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।

তাই আজ আমরা উপস্থাপন করছি এ ক্ষতি থেকে রক্ষার কিছু উপায় – (How To Protect Your Eye)

 

  • কম্পিউটার থেকে নির্গত হয় ক্ষতিকর নীল আলো যা আমাদের চোখে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। হতে পারে কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোমের মতো সমস্যা। তাই প্রথমেই আমাদের কম্পিউটার স্ক্রিনটি পরিষ্কার রাখতে হবে।

 

  • আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলটিকে এমন ভাবে সেট করুন যাতে অভ্যন্তরীণ কোন আলো সরাসরি চোখের উপরে না পরে। ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখুন। মোবাইল বা কম্পিউটার এর স্ক্রিনের আলো যাতে প্রতিফলন না ঘটায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। অন্ধকারে মনিটরের সামনে বসে থাকবেন না। যারা GAME খেলতে পছন্দ করেন তাদের বেশি এই বিষয়টা মাথাই রাখা উচিত। 

 

  • কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারের সময় একটানা কাজ করবেন না। মাঝে মাঝে বিরতি নিন, চোখের পলক ঠিক মত ফেলুন। এতে চোখের ময়েশ্চার তৈরি হবে এবং প্রেশার কম পরবে। পারলে মাঝে মাঝে বিরতির সময় সবুজ প্রকৃতির দিকে তাকান।

 

  • গবেষকরা চোখের সুরক্ষায় আবিষ্কার করেছে ২০-২০-২০ নিয়মটি। যার মানে হলো প্রতি ২০ মিনিটে ২০ মিটার দুরত্বের কোন বস্তুকে ২০ সেকেন্ড দেখা এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটা উপায় চোখের আর্দ্রতা রক্ষার।

 

  • মোবাইল ও কম্পিউটার এর আলোকে সহনীয় মাত্রায় রাখুন। অস্বাভাবিক উজ্জ্বলতা চোখের জন্য ক্ষতিকর। পাশাপাশি ডিসপ্লের স্ক্রিনের রেজুলেশন ও কমিয়ে রাখুন এবং মাঝে মাঝে কম্পিউটারের স্থান পরিবর্তন করুন।

 

  • খেয়াল রাখতে হবে মোবাইল ও কম্পিউটার থেকে চোখের দুরত্বের দিকে। পাশাপাশি উচ্চতার দিকেও। এক্ষেত্রে মোবাইল বা কম্পিউটার টিকে রাখতে হবে আই – লেভেল বরাবর আর দুরত্ব হতে হবে ৫০৭০ সেন্টিমিটার

 

  • প্রয়োজনে সফটওয়্যার এর সাহায্য নিন। যেমন F.lux, এর এমনই কার্যকারিতা যা কম্পিউটার এর মনিটরের আলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সফটওয়্যারটি ভৌগলিক অবস্থান এবং সময় অনুযায়ী মনিটরের ব্রাইটনেস ও আলোর রং বদলে দেয়।

 

  • প্রতিবছর অন্তত একবার চেষ্টা করুন চোখের পরীক্ষা করানোর। পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কম্পিউটার উপযোগী গ্লাস ব্যবহার করুন।যার এন্টি গ্লেয়ার কোটিং শুধু চোখকে নয় রক্ষা করবে ঘাড় ও পিঠকেও।

 

  • চোখের সুসাস্ব্যের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন যেমন ভিটামিন এ,ই,সি,বি- কমপ্লেক্স, জিংক ইত্যাদি পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজি ও ফলমূলে। তাই নিয়ম মেনে এগুলোও রাখতে হবে খাদ্য তালিকায়।

 

  • সামুদ্রিক মাছ খান।কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণে DHA মূলক। যা চোখের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

 

  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের কিছু ব্যায়াম করলে চোখের পেশিগুলো সতেজ থাকে। যেমন দু হাতের তালু চোখে রেখে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেয়া এছাড়াও প্রথমে আপনার দুই হাতের তালু ঘষে গরম করে চোখের উপর ১ মিনিট রাখুন এতে করেও আপনি আরাম বোধ করবেন। কিছু মাথা এবং ঘাড় এর ব্যায়াম অনেক অসুবিধা লাঘব করতে পারে।

 

  • দীর্ঘ সময় কজের ক্ষেত্রে আধা ঘণ্টা পর পর চোখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। এতে করে চোখের স্নায়ু গুলি শীতল হবে

 

  • চোখের পাতা বন্ধ রেখে ক্লক ওয়াইজ ও এন্টি ক্লক ওয়াইজ ঘুরান কিছুক্ষণ। এতে চোখের ময়েশ্চারের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং চোখের অবসাদও দূর হবে।

 

চোখ ভলো রাখতে হলে আমাদের মূলত প্রয়োজন সচেতনতাটুকু। আমরা একদিকে যেমন প্রযুক্তিকে আপন করে নিব ঠিক তেমনি এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও দূরে থাকব। তবেই না আমাদের সার্থকতা।