ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ৬ টি সহজ উপায়

Sharing is caring!

সময়ের সাথে সাথে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েই চলেছে। ডায়াবেটিস পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলে কিছু নিয়ম অনুসরণ করে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ডায়াবেটিস কন্ট্রোল আপনার জন্য দৈনিক,  সাপ্তাহিক, মাসিক কিংবা বাৎসরিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে।  সুস্থ জীবন-যাপনের জন্য এই চ্যালেঞ্জ একজন ডায়াবেটিস রোগীকে নিতেই হবে।

how to control diabetes

যদি আপনি একজন, ডায়াবেটিস রোগী হয়ে থাকেন আর যদি আপনার মনে প্রশ্ন জাগে ” আমিতো সম্পূর্ণভাবেই সুস্থ আছি। 

ডায়াবেটিস এর কারণে আমার কোন সমস্যা হয় না তাহলে কি আমার ডায়াবেটিস   কন্ট্রোলের জন্য কোন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে?

তাহলে আপনাকে উত্তর হিসেবে বলবো, যদি আপনি ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ড্যামেজ। অন্ধত্বের মতো রোগ থেকে সুরক্ষিত নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

what is diabetes

সর্বপ্রথম জেনে নেয়া যাক ডায়াবেটিস কি?

আমাদের দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি প্রয়োজন অনুযায়ী ইনসুলিন উৎপন্ন করতে না পারে বা উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যার্থ হয় তবে এক ধরনের রোগ শরীরকে আক্রমণ করে। সেই রোগটিকে বলা হয় “ডায়াবেটিস”।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রথম শর্ত হচ্ছে, ব্লাড সুগার লেভেলকে যতটা সম্ভব নরমাল রাখতে হবে। ব্লাড সুগার লেগেলকে কন্ট্রোলে রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে তেমন কিছু উপায় নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ

blood sugar check up (1)

হঠাৎ ব্লাড সুগার চেকআপঃ

নিশ্চয় আপনার ও ডাক্তারের মধ্যে ব্লাড সুগার চেকাপের একটি নির্দিষ্ট শিডিউল ঠিক করা থাকে। চেকাপের দিন আপনার  ঠিক সময়ে খাবার গ্রহণের প্রবণতা অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

নির্দিষ্ট শিডিউলের বাইরে হঠাৎ একদিন আপনার সুগার চেক করুন। এটি হবে আচমকা গোলাবর্ষণের মতো।

আপনি যদি কোন কোম্পানির সুপারভাইজার হোন।  আর আপনারা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা যদি জানে আপনি কোনদিন কোম্পানি পরিদর্শনে যাবেন, সেদিন দেখবেন সবকিছু গোছানো থাকবে। সব কাজ ঠিক সময়ে হবে।

আর আপনি যদি নির্দিষ্ট দিনের পরিবর্তে অন্য দিন যান সেদিন দেখবেন পুরো চিত্রটা ভিন্ন। তেমনি ডায়াবেটিসের উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ কতখানি রয়েছে সেটি আপনি বুঝবেন হঠাৎ সুগার চেকাপের রিপোর্টের ফলাফলের মাধ্যমে।

নির্দিষ্ট পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণঃ

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাদ্য আপনার সুগার লেভেলকে রোলার কোস্টারের মতো উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে। তাই খেয়াল রাখতে হবে কার্বোহাইড্রেটের গ্রহণের পরিমাণ যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে।

মহিলাদের জন্য ৩৫-৪৫ গ্রাম ও পুরুষদের জন্য ৪৫-৬০ গ্রাম শর্করা গ্রহণের সঠিক পরিমাণ।

“ফাইবার ” ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আটা রুটি, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, শিমের বিচি এ খাবার গুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে।

নিয়মিত শরীরচর্চাঃ

শরীর ফিট রাখতে হলে শরীরচর্চার কোন বিকল্প নেই। ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা আবশ্যক। সপ্তাহে কমপক্ষে যেন ১৫০ মিনিট হয়।

সময়টাকে আপনি নিজের মতো করে ভাগ করে নিতে পারেন যেমনঃ ৩০ মিনিট করে  সপ্তাহে ৫ দিন। এর জন্য জিমে যাওয়ার আবশ্যকতা নেই। হাঁটা, দৌঁড়, সাইক্লিং এসব ঠিক আছে।

আপনি ডাক্তারের সাথে কথা বলে শরীরচর্চার প্ল্যান তৈরি করে নিতে পারেন।

 

ব্লাড প্রেসার ও কলেস্টেরলের চেকআপঃ

ব্লাড সুগারের সাথে সাথে ব্লাড প্রেসার, কলেস্টেরল নির্দিষ্ট মাত্রায় আছে কিনা সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।

-ব্লাড সুগার বছরে দুবার চেক করা উচিত।

-কলেস্টেরল, ব্লাড প্রেসার, ওজন নির্দিষ্ট সময় পর পর চেক আপ করতে হবে।

 

নিজের টিম গড়ে তুলুনঃ

আপনার পরিবারের অন্য কারো বা আপনার পরিচিত কোন বন্ধুর যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে তবে তার সাথে কথা বলে জেনে নিন সে কিভাবে তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে, তার খাবারের মেনু কি, তার সুগার লেভেল কেমন।

সম্ভব হলে তাকে আপনারা ব্যায়ামের সঙ্গী করে নিন এতে আপনারা উৎসাহ বাড়বে সাথে অনিয়মের সুযোগ অনেকাংশে কমে যাবে।