Fri. Dec 4th, 2020

Dakter Achen

Forget Medicine, GO With Nature

কিছু নিয়ম যা আপনার শ্রবণশক্তি ভালো রাখবে।

1 min read

শ্রবণশক্তির সুরক্ষার অনুসরণীয় কিছু ধাপসমূহ

 

ভাবুনতো, হঠাৎ যদি এমন হয় আপনার আশেপাশের কোন শব্দই আপনি শুনতে পাচ্ছেন না। আপনার সামনে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ আপনার নাম ধরে ডাকছে কিন্তু তা আপনার কানে শ্রুত হচ্ছেনা।

এমনটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে, তাইতো? মনে রাখবেন একবার যদি শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায় তবে তা আর কখনোই পুরোপুরি ফিরে পাওয়া হয়না। তাই আমাদের উচিত আগে থেকেই কানের যত্নে সচেতন হওয়া।

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি সাজানো হয়েছে আমাদের কান ও শ্রবণশক্তি সুরক্ষিত রাখবে তেমন সহজ কিছু উপায়ের আলোকে। চলুন জেনে নেয়া যাক কানের যত্নে করণীয় কাজসমূহঃ

 

শব্দদূষণ এড়াতে এয়ার প্লাগ এর ব্যবহার

hearing problem

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে ১৫% মানুষ তাদের শ্রবণশক্তি হারায় শব্দদূষণের কারণে। ক্লাব, কনসার্ট, ধান কাটার যন্ত্র, করাত উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্রপাতি কানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এয়ার প্লাগ এমন ক্ষতিকারক শব্দদূষণ গুলো এড়াতে সাহায্য করে। এয়ার প্লাগ ব্যবহারে সহজ ও আরামদায়ক। মিউজিসিয়ান এয়ার প্লাগ কথা ও গান শোনা উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।

 

হেডফোনের ভলিউম নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখা

আজকাল আমাদের একটা খারাপ অভ্যাস আছে রাস্তাই হাটতে হাটতে মোবাইল এ গান শুনা। যেহেতু, রাস্তাই অনেক সাউন্ড তাই নরমালি বেশি ভলিউম না দিলে গান শুনা যাবে না।

কিন্তু একদিকে অনেক সময়ের জন্য আপনি হেডফোন কানে লাগিয়ে রাখাতে। কানে বাতাস ঢুকতে পারছেনা। তার উপরে বেশি ভলিউম। আর কি লাগে।

ওয়াল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের রিপোর্ট অনুসারে। ১.১ বিলয়ন তরুণ বয়সের ছেলেমেয়ে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে থাকে শুধুমাত্র মাত্রারিক্ত অডিও ডিভাইস ব্যবহারের কারণে।

আপনি যদি হেডফোনে গান শুনতে ভালোবাসেন তবে অবশ্যই ভলিউম ৬০% এর কম রাখবেন। খেয়াল রাখবেন, একদিনে হেডফোনের ব্যবহার যেন সর্বোচ্চ ৬০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

 

যখন তখন কটন বাডের ব্যবহার পরিহার করা

বেশিরভাগ মানুষ কান পরিষ্কারের জন্য কটন বাড ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে এটি মোটেই উচিত নয়। কানে খইল জন্মাবে এটা স্বাভাবিক। কানে কিছু তন্ত্র রয়েছে যা ভেতরকার ময়লা আপনা আপনি বের করে দেয়।

কানে অতিরিক্ত কটন বাড ব্যাবহারে আপনার কানের গ্ল্যান্ড ফুলে যায়। এতে কানে কম শুনতে পাওয়া, আর ইনফেকশন এর মতো অনেক কিছুই হতে পারে।

কানের খইল বাইরের ক্ষতিকারক পদার্থ ভেতর ঢোকা থেকে কানকে কানকে রক্ষা করে। যদি কানে অতিরিক্ত খইল জমে তাহলে পরিষ্কারের জন্য সামান্য ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কিছুদিনের জন্য নরম কটন বাড ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

কান শুষ্ক রাখতে হবে

 

কানে যদি পানি জমে থাকে কিংবা যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য কান ভেজা থাকে তবে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে কারণে  কানে ইনফেকশনের হতে পারে। স্নান বা সাঁতারের পর অবশ্যই কান শুষ্ক পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে।

যদি আপনার মনে হয় যে আপনার কানে পানি জমে আছে তাহলে জমা পানি বের করার জন্য মাথা পাশের দিকে কাত করে কানের লতি হালকা ভাবে টেনে ধরুন।

কানের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য আপনি “ সুইমার এয়ারপ্লাগ” ব্যবহার করতে পারেন। এটি বাচ্চা ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্য উপকারী।

 

নিয়মিত শরীরচর্চা

 

শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গের মতো শরীরচর্চা কানের জন্যও বেশ উপকারী। হাঁটা, দৌড়ঝাঁপ, সাইক্লিং কানের সাথে সাথে শরীরের অন্যান্য অংশে সঠিক  রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে।

সাইক্লিং এর সময় অবশ্যই হেলমেট পরিধান করা উচিত। দুঘর্টনা বশত, কখনো যদি সাইকেল থেকে পড়ে গেলে মাথার সাথে সাথে কান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আশংকা থাকে। এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।

 

চিন্তামুক্ত থাকুন

মানসিকভাবে চিন্তাগ্রস্থ থাকলে তা শরীরর উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত স্ট্রেস নার্ভ, হার্টকে দুর্বল করে দেয়। আর শরীর সব তন্ত্র গুলো একটি অন্যটির সাথে সংযুক্ত।

তাই যতটা সম্ভব চিন্তামুক্ত থাকুন, নিজেকে ভালোবাসুন।

 

নির্দিষ্ট সময় পর পর চেকআপ

আমরা যেমন আমাদের প্রিয় গুলো কিছুদিন পর পর চেক করে দেখি সব ঠিক আছে কিনা তেমনি আমাদের উচিত নির্দিষ্ট সময় পর পর আমাদের শরীরেরও চেক আপ করানো।

মনে রাখবেন কোন রোগ শরীরে একদিনে বাসা বাঁধে না। আমাদের অবহেলার কারণে এক সময় রোগের বাসা বড় হয়ে  দূভোর্গের সৃষ্টি করে। নির্দিষ্ট সময় পর পর কানের চেক আপ করতে ভুলবেন না যেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *